কাব্যসংস্কৃতিকে প্রায়ই স্বাধীনতার কলাকৌশল হিসেবে বর্ণনা করতে দেখা যায়। এই বিবরণ আকর্ষণীয় বটে, তবে বলতে হয়—অসম্পূর্ণ। কবিতা নিঃসন্দেহে গদ্যের সাধারণ আবশ্যকীয়তা থেকে ভাষাকে মুক্তি দেয়; তৎসত্ত্বেও কবিকে শৃঙ্খলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিতে পারে না।
প্রত্যক্ষে একটি কবিতা যত বেশি প্রথাগত মাত্রা, ছন্দ, স্তবক এবং গঠনবিন্যাস বর্জন করে, তত বেশি প্রয়োজন পড়ে আরেকটি সুনির্দিষ্ট গঠননীতি আবিষ্কারের। একটি কবিতা কখনোই শুধুমাত্র একটি বাক্যকে ভেঙে ছোট ছোট পঙ্ক্তির রূপে প্রকাশ করেই তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না।
এই প্রশ্নে বিশেষভাবে বিদ্ধ হয়েছে আধুনিক কাব্যচর্চা।
প্রথাগত ছন্দবদ্ধ কবিতা, মুক্তছন্দে রচিত কবিতা এবং গদ্যকবিতা দৃশ্যত বইয়ের পাতায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হলেও মূল প্রশ্ন কিন্তু একটিই: ছন্দের কোন্ গঠন, কোন্ অন্তর্নিহিত স্ট্রাকচার, এই রচনাকে কবিতা করে তুলেছে?
চতুর্দশপদী কবিতা লিখতে গেলে আধুনিক কবিকেও প্রতিষ্ঠিত ছন্দরীতি মেনেই চলতে হয়। আবার কবি যখন মুক্তছন্দে কবিতা লেখেন, তখন তাঁকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ছন্দ আবিষ্কার করতে হয়। গদ্যছন্দ তো আরও এক ধাপ এগিয়ে। গদ্যকবিতায় দৃশ্যত কবিতার আর্কিটেকচার নেই, সেখানে পঙ্ক্তিও দৃশ্যমান নয়। তাই যে কবি গদ্যকবিতা লেখেন, তাঁকে আরও জটিল এক ছন্দ আবিষ্কার করতে হয়—যা কবিতার ভিতরে সৃষ্টি করে এক অন্তর্গত গতিময়তা।স্বাধীনতা তাই গঠনবিন্যাসকে সমূলে উৎপাটন করে না; বরং দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠিত ছন্দের ব্যাকরণ থেকে সরে এসে ব্যক্তি-কবির উপর আরোপিত হয়।